আন্তরিকতা এবং ব্যাকুলতা ছাড়া ঈশ্বর লাভ অসম্ভব—শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এই অমর বাণীটি বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মনের অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতের আলোকেই এই গভীর আধ্যাত্মিক দর্শনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় ঈশ্বরকে ডাকার প্রথম শর্ত হলো মনের সরলতা বা কপটতাহীনতা। মুখ এবং বুক এক করার নামই হলো আন্তরিকতা।
আমরা মুখে অনেকে অনেক সময় ঈশ্বরের নাম জপ করি, কিন্তু মনে সংসারের হাজারটা চিন্তা ঘোরে। ঠাকুর বলতেন, মুখে যা বলা হচ্ছে, মন থেকেও যেন ঠিক সেটাই চাওয়া হয়।
দামী উপাচার দিয়ে পূজা করলেই ভগবান খুশি হন না। যদি হৃদয়ে
ঈশ্বরের প্রতি সৎ ভালোবাসা না থাকে, তবে সেই পূজা কেবলই বাহ্যিক আড়ম্বর। ঈশ্বর মানুষের ধনসম্পদ
দেখেন না, তিনি দেখেন ভক্তের মনের সরল
ভাব।আর ব্যাকুলতা হলো ঈশ্বরের জন্য
তীব্র এবং গভীর এক টান। এটি কেবল একটি সাধারণ ইচ্ছা নয়, এটি হলো ঈশ্বরকে না পেয়ে থাকতে না পারার এক চরম
ছটফটানি। ঠাকুর এই ব্যাকুলতাকে বোঝাতে তিনটি পার্থিব টানের চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন তিনি বলেছেন সংসারী
মানুষের বিষয়ের প্রতি টান যা তিনি টাকার প্রতি লোভ
বুঝিয়েছেন, মায়ের সন্তানের প্রতি টান, এবং সতী নারীর পতির প্রতি টান—এই তিনটি টান যদি কারও একত্রে ঈশ্বরের প্রতি হয়, তবেই একমাত্র ভগবানকে লাভ করা সম্ভব। শ্রীরামকৃষ্ণ
বলতেন, "মা
যেমন সন্তানকে দেখা দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হন, সন্তানও যদি মায়ের জন্য তেমনি
ব্যাকুল হয়ে কাঁদে, তবে
মা আর দূরে থাকতে পারেন না।" তাই ঈশ্বর লাভের মূল চাবিকাঠি কোনো বাহ্যিক
আড়ম্বরে নয়, তা
লুকিয়ে আছে আমাদের নিজেদের অন্তরের ব্যাকুল ক্রন্দনে। একজন মানুষকে যদি জলের নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়, তবে বাতাসের জন্য তার যেমন ছটফটানি শুরু হয়, ঈশ্বরের জন্য ঠিক তেমন ব্যাকুলতা দরকার।
আজকের দ্রুতগামী ও কৃত্রিম
পৃথিবীতে এই শিক্ষাটি আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।ঠাকুর কোনো কঠিন
যোগসাধনা, উপবাস বা
জটিল শাস্ত্রপাঠের কথা বলেননি। তিনি সাধারণ মানুষকে দেখিয়েছেন যে, গৃহস্থ জীবনে থেকেও কেবল ব্যাকুল হৃদয়ে কাঁদলেই
ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। আন্তরিকতা কেবল আধ্যাত্মিক জীবনেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে।
এটি আমাদের অহংকার ও লোকদেখানো মানসিকতা থেকে মুক্ত করে।
Please Subscribe and share our Youtube channel
https://www.youtube.com/shorts/mxGZ4dzerLA
No comments:
Post a Comment