Friday, May 29, 2026

 

আন্তরিকতা এবং ব্যাকুলতা ছাড়া ঈশ্বর লাভ অসম্ভবশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এই অমর বাণীটি বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মনের অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতের আলোকেই এই গভীর আধ্যাত্মিক দর্শনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় ঈশ্বরকে ডাকার প্রথম শর্ত হলো মনের সরলতা বা কপটতাহীনতা। মুখ এবং বুক এক করার নামই হলো আন্তরিকতা।

আমরা মুখে অনেকে অনেক সময় ঈশ্বরের নাম জপ করি, কিন্তু মনে সংসারের হাজারটা চিন্তা ঘোরে। ঠাকুর বলতেন, মুখে যা বলা হচ্ছে, মন থেকেও যেন ঠিক সেটাই চাওয়া হয়।

দামী উপাচার দিয়ে পূজা করলেই ভগবান খুশি হন না। যদি হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি সৎ ভালোবাসা না থাকে, তবে সেই পূজা কেবলই বাহ্যিক আড়ম্বর। ঈশ্বর মানুষের ধনসম্পদ দেখেন না, তিনি দেখেন ভক্তের মনের সরল ভাব।আর  ব্যাকুলতা হলো ঈশ্বরের জন্য তীব্র এবং গভীর এক টান। এটি কেবল একটি সাধারণ ইচ্ছা নয়, এটি হলো ঈশ্বরকে না পেয়ে থাকতে না পারার এক চরম ছটফটানি। ঠাকুর এই ব্যাকুলতাকে বোঝাতে তিনটি পার্থিব টানের চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন তিনি বলেছেন সংসারী মানুষের বিষয়ের প্রতি টান যা তিনি টাকার প্রতি লোভ বুঝিয়েছেন, মায়ের সন্তানের প্রতি টান, এবং সতী নারীর পতির প্রতি টানএই তিনটি টান যদি কারও একত্রে ঈশ্বরের প্রতি হয়, তবেই একমাত্র ভগবানকে লাভ করা সম্ভব। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, "মা যেমন সন্তানকে দেখা দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হন, সন্তানও যদি মায়ের জন্য তেমনি ব্যাকুল হয়ে কাঁদে, তবে মা আর দূরে থাকতে পারেন না।" তাই ঈশ্বর লাভের মূল চাবিকাঠি কোনো বাহ্যিক আড়ম্বরে নয়, তা লুকিয়ে আছে আমাদের নিজেদের অন্তরের ব্যাকুল ক্রন্দনে। একজন মানুষকে যদি জলের নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়, তবে বাতাসের জন্য তার যেমন ছটফটানি শুরু হয়, ঈশ্বরের জন্য ঠিক তেমন ব্যাকুলতা দরকার।

আজকের দ্রুতগামী ও কৃত্রিম পৃথিবীতে এই শিক্ষাটি আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকঠাকুর কোনো কঠিন যোগসাধনা, উপবাস বা জটিল শাস্ত্রপাঠের কথা বলেননি। তিনি সাধারণ মানুষকে দেখিয়েছেন যে, গৃহস্থ জীবনে থেকেও কেবল ব্যাকুল হৃদয়ে কাঁদলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। আন্তরিকতা কেবল আধ্যাত্মিক জীবনেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। এটি আমাদের অহংকার ও লোকদেখানো মানসিকতা থেকে মুক্ত করে।

Please Subscribe and share our Youtube channel

https://www.youtube.com/shorts/mxGZ4dzerLA

 


Wednesday, May 27, 2026

 



শ্রীমা  বলতেন যে, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অনেক সময়ই  অশরীরী আত্মার উপস্থিতি দেখতে  পেতেন একবার ঠাকুর স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজকে নিয়ে  বেণী পালের বাগানে গিয়েছিলেন সেখানে ঠাকুর যখন বাগানে বেড়াচ্ছিলেন, তখন একটি ভূত এসে তাঁকে বলে, তুমি কেন এখানে এসেছ? জ্বলে গেলুম আমরা। তোমার হাওয়া আমাদের সহ্য হচ্ছে না, তুমি চলে যাও, চলে যাও ঠাকুরের পবিত্র উপস্থিতি বা আধ্যাত্মিক তেজ সেই অতৃপ্ত আত্মার কাছে অসহ্য বোধ হচ্ছিল। ঠাকুর তখন মৃদু হেসে কাউকেও কিছু না বলে সেই রাতেই রাত ১টার সময় গাড়ি ডেকে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে আসেন। পরে স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজ এই কথা শুনে অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলেন। ঠাকুর তখন কৌতুক করে বলেছিলেন যে, তিনি যদি আগেই ভূতের কথা বলতেন, তবে ভয়ে রাখালের "দাঁত কপাটি লেগে যেত" শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের পবিত্র সান্নিধ্য এবং তাঁর দিব্য দর্শনের মাধ্যমেই আবার  অশরীরী আত্মা বা ভূতেরা মুক্তি লাভ করত মা সারদা দেবীর বর্ণনা অনুযায়ী ঠাকুরের এই মুক্তিপ্রদানের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত অলৌকিক:মা বলতেন যে, ঠাকুরের পবিত্র বাতাসের সংস্পর্শে আসাই ছিল সেই সব অতৃপ্ত আত্মাদের জন্য পরম প্রাপ্তি তাঁর দর্শনের প্রভাবেই তারা অশরীরী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে যেত ঠাকুরের আধ্যাত্মিক তেজ এতটাই প্রবল ছিল যে, অনেক সময় অতৃপ্ত আত্মারা তাঁর উপস্থিতি সহ্য করতে পারত না। ঠাকুরের এই পবিত্র জ্যোতি বা তেজের সংস্পর্শে আসাই তাদের মুক্তির কারণ হতো। মা বিশ্বাস করতেন যে, ঠাকুরের পবিত্র দৃষ্টি বা দর্শনের ফলেই সেই সব অতৃপ্ত আত্মার সকল জাগতিক তৃষ্ণা মিটে যেত এবং তারা পরম গতি লাভ করত