Saturday, June 13, 2026

দুঃখই তো ভগবানের দান... মা সারদা দেবী

 


আমাদের জীবনে যখন দুঃখ আসে, আমরা ভেঙে পড়ি আমরা ভগবানকে প্রশ্ন করি— "আমি তো কোনো অন্যায় করিনি, তবে আমার সাথেই কেন এমন হলো?" আমরা হতাশায় ডুবে যাই কিন্তু আজ থেকে একশত বছর আগে, এই সংসারের বুকে দাঁড়িয়ে এক পরমজননী আমাদের শিখিয়ে গেছেন দুঃখকে দেখার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তিনি আর কেউ ননপরমারাধ্যা মা সারদাদেবী মা আমাদের শিখিয়েছেন, সংসারে দুঃখ এলে হতাশ হতে নেই, কারণ"দুঃখই তো ভগবানের দয়ার দান"

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন, মা কেন দুঃখকে ভগবানেরদয়ার দানবললেন? জাগতিক দৃষ্টিতে যা কষ্ট, আধ্যাত্মিক বা মানসিক দৃষ্টিতে তাই হলো অন্তরের শুদ্ধিকরণ। মা বলতেন, মানুষ যখন সুখে থাকে, তখন সে অহংকার আর ভোগের অন্ধকারের মধ্যে ভগবানকে ভুলে থাকে। কিন্তু যখনই জীবনে চরম দুঃখ বা বিপর্যয় আসে, তখনই মানুষের অহংকার ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়। মানুষ তখন ব্যাকুল হয়ে ঈশ্বরকে ডাকে। এই যে দুঃখ আমাদের ঈশ্বরের চরণের দিকে টেনে নিয়ে যায়, আমাদের মনকে পবিত্র করেএটাই তো ভগবানের আসল দয়া। মহাভারতের কুন্তীদেবীও কিন্তু ভগবানের কাছে কেবল দুঃখই চেয়েছিলেন, যাতে প্রতি মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণকে মনে রাখা যায়অনেকে ভাবেন, নিয়মিত পুজো বা ঈশ্বর সাধনা করলে জীবনে বোধহয় কোনো বিপদ আসবে না। মা এই ভুল ধারণাটি এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন"ভগবানকে ডাকলে যে দুঃখ আসবে না তা নয়।" এই মানবদেহ ধারণ করলে জরা, ব্যাধি এবং সংসারের কষ্ট ভোগ করতেই হবে। স্বয়ং ভগবানও যখন মানুষ রূপে আসেন, তাঁকেও দুঃখের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটা আমাদের প্রারব্ধ বা কর্মফল

তাহলে ভগবানকে ডেকে আমাদের লাভ কী? মা আমাদের সেই পরম অভয় দিয়ে বলেছেনযেখানে তলোয়ারের আঘাত লাগার কথা ছিল, সেখানে ঈশ্বরের কৃপায় একটা সামান্য সুঁচ ফোটার মতো কষ্ট হবে। তিনি বিপদে আমাদের হাত ধরে রক্ষা করবেন। মায়ের ভাষায়"সেই বিপদ জলের মতন পায়ের তলা দিয়ে চলে যাবে..."

জলের স্রোত যখন আমাদের পায়ের তলা দিয়ে বয়ে যায়, তখন আমরা কিছুটা ঠান্ডা বা মাটির ভিজে ভাব অনুভব করি ঠিকই, কিন্তু সেই স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। ঠিক তেমনি, যার ওপর মায়ের কৃপা থাকে, ঈশ্বরের প্রতি যার অচলা ভক্তি থাকে, দুঃখ তাঁর জীবনে এলেও তাঁকে ধ্বংস করতে পারে না। সে কেবল স্পর্শ করে চলে যায়

তাই আজ থেকে আমাদের  জীবনে যখনই কোনো কঠিন পরিস্থিতি আসবে, আমরা  হতাশ হবো  না। নিজেকে একা ভাববো না। আমাদের  মনে রাখা কর্তব্য যে  মা সারদা আমাদের  হাত ধরে আছেন। এই দুঃখকে ভগবানের দেওয়া একটি পরীক্ষা বা তাঁর আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করি, যা  আমাদেরকে  আরও শক্তিশালী করে তুলতে এসেছে

মায়ের এই অমৃত বাণী আমাদের শেখায় চরম সংকটেও মনের শান্তি বজায় রাখতে। আসুন, আমরাও আমাদের জীবনকে মায়ের চরণে সমর্পণ করি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকার শক্তি অর্জন করি

শ্রীশ্রী মায়ের এই বাণীটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং আপনার মনের অন্ধকার দূর করতে সাহায্য করে, তবে ব্লগটি লাইক করুন, আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আর এইরকম আরও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণামূলক তথ্য পেতে আমাদের ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন, পজিটিভ থাকুন।
"জয় মা।"

আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে পারেন...।

https://www.youtube.com/watch?v=lHMVaTZJ_Tk



Friday, June 12, 2026

ঠাকুর বলেছেন 'এক হাতে ঈশ্বরকে ধরে কাজ করা

 



ঠাকুর বলেছেন 'এক হাতে ঈশ্বরকে ধরে কাজ করা: ঠাকুর বলেছেন, সংসারী মানুষদের উচিত এক হাতে ঈশ্বরের পাদপদ্ম ধরে থাকা এবং অন্য হাতে সংসারের কাজ করা; কাজ শেষ হলে দুই হাতেই ঈশ্বরকে ধরতে হবে। ঠাকুরের এই রূপকটির অর্থ হলোসংসারে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও মনের একটি অংশ সর্বদা ঈশ্বরের চিন্তায় নিয়োজিত রাখা। সংসারের মোহ, দুঃখ এবং বন্ধন থেকে মনকে মুক্ত রাখতে ঈশ্বরের শরণাগতি হলো একমাত্র ঢাল। এক হাতে ঈশ্বরের চরণ ধরে রাখার অর্থ হলো, জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য যেঈশ্বর লাভবা আত্মিক উন্নতিতা কোনো অবস্থাতেই ভুলে না যাওয়া। শ্রীরামকৃষ্ণ কখনোই সংসার ছেড়ে বনে চলে যাওয়ার কথা বলেননি তিনি কর্মত্যাগের চেয়েকর্মযোগ’-এর ওপর জোর দিয়েছেন। পরিবার, সমাজ জীবিকার প্রতি যে দায়িত্ব রয়েছে, তা আন্তরিকতার সাথে পালন করতে হবে। মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় থাকে ঠাকুর এখানে বয়স সময়ের সাথে আধ্যাত্মিক উত্তরণের একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক মানসিক ক্রম ব্যাখ্যা করেছেন। যখন বয়স বাড়ে এবং সংসারের প্রত্যক্ষ দায়িত্বগুলো (যেমনসন্তানদের বড় করা বা কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়া) শেষ হয়, তখন মনকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের চরণে সমর্পণ করতে হবে। জীবনের শেষভাগে এসে আর কোনো জাগতিক আসক্তি না রেখেদুই হাতে’, অর্থাৎ সমগ্র মন প্রাণ দিয়ে পরমাত্মার সাধনায় লীন হওয়াই মানুষের একমাত্র সার্থকতা।

আজকের তীব্র গতিশীল জীবন, লক্ষ্যহীন প্রতিযোগিতা এবং অবিরাম মানসিক ক্লান্তির যুগে শ্রীরামকৃষ্ণের এই জীবনসূত্রটি মানসিক ভারসাম্য শান্তি রক্ষার এক মহৌষধ এটি আমাদের প্রথাগত বৈরাগ্যের ধারণাকে বদলে দেয় ঠাকুর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আত্মিক শান্তি বা আধ্যাত্মিকতার খোঁজে সংসার ত্যাগ করে হিমালয়ের গুহায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেইবরং, আমরা যেখানে আছি, সেই কর্মক্ষেত্রকেই যদিপবিত্র উপাসনালয়হিসেবে বিবেচনা করা যায়, তবে জীবন বদলে যায়। নিজের দৈনন্দিন কাজকে কোনো বাধ্যবাধকতা না ভেবে, তাকে যদি সমর্পণ সেবার মনোভাব নিয়ে সম্পন্ন করা যায়এবং ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি না রেখে মনকে এক পরম শক্তির সাথে যুক্ত রাখা যায়তবেই জীবনের আসল সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এটিই আধুনিক মানুষকে মানসিক চাপমুক্ত হয়ে শান্তিতে বাঁচার এবং কর্মের মাঝেই পরম আনন্দ লাভ করার এক নিখুঁত রাজপথ দেখায়